হিন্দু ঐতিহ্যে হরতালিকা তীজ
উত্তর ভারতে, বিশেষত রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং বিহারে, হরতালিকা তীজ একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব যা বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় নারীই পালন করেন। ভাদ্রপদ মাসের (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। “হরত” (অপহরণ) এবং “অলিকা” (সখী) শব্দ থেকে উদ্ভূত “হরতালিকা” শব্দটি সেই সখীর কথা বোঝায় যিনি দেবী পার্বতীকে শিবকে সন্তুষ্ট করার তপস্যার জন্য গোপনে বনে নিয়ে গিয়েছিলেন।
দাম্পত্য সুখ বা (অবিবাহিতাদের ক্ষেত্রে) একজন সৎ স্বামী লাভের আশায় নারীরা নিষ্ঠাভরে উপবাস করেন এবং দেবী পার্বতীর পূজা করেন।
দেবী পার্বতীর ভক্তির কাহিনী
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, পার্বতী শিবকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পিতা তাঁকে বিষ্ণুর সাথে বিবাহ দিতে চেয়েছিলেন—এই ইচ্ছার বিরোধিতা করেছিলেন পার্বতী। তাঁর সখী তাঁকে বনে নিয়ে গিয়ে কঠোর তপস্যা করান, যাতে এই বিবাহ প্রতিরোধ করা যায়।
পার্বতীর অটুট ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শিব তাঁকে সহধর্মিণী রূপে গ্রহণ করেন, তাঁদের সম্পর্ক প্রেম, ধৈর্য ও নিষ্ঠার প্রতীক হয়ে ওঠে। তখন থেকেই দাম্পত্য সুখ এবং শিব-পার্বতীর আশীর্বাদের আশায় নারীরা হরতালিকা তীজ পালন করে আসছেন।
নির্জলা ব্রত, অর্থাৎ সম্পূর্ণ উপবাস, নারীরা তাঁদের ভক্তি প্রকাশের জন্য পালন করেন। মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই উপবাস তাঁদের স্বামী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘায়ু, সুখ এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। অবিবাহিতা নারীরাও শিবের মতো নিষ্ঠাবান ও প্রেমময় স্বামী পাওয়ার আশায় এই উপবাস পালন করেন।
এই দিনে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর মাটির মূর্তি তৈরি করে পূজা করা হয়। ভক্তরা প্রেম, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশায় ফুল, ফল এবং মিষ্টি নিবেদন করেন।
১. উপবাস ও রাত্রিব্যাপী জাগরণ
২. বিশেষ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান
৩. সামাজিক ও সম্প্রদায়গত উদ্যাপন
দেবী পার্বতী সকলকে প্রেম, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ করুন! 🙏🌺🕉️