হিন্দু ঐতিহ্যে গঙ্গা সপ্তমী
গঙ্গা সপ্তমী এবং গঙ্গা জয়ন্তী উভয় নামেই উদযাপিত এই পবিত্র হিন্দু উৎসবটি পৃথিবীতে গঙ্গা নদীর প্রত্যাবর্তনের স্মরণে পালিত হয়। বৈশাখ মাসের (এপ্রিল-মে) শুক্লপক্ষের সপ্তম দিনে পড়া এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটি ঋষি জহ্নুর বন্দিদশা থেকে দেবী গঙ্গার মুক্তির স্মরণে পালিত হয়, যে কারণে তাঁর অপর নাম জাহ্নবী।
এই দিনে ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে গঙ্গা নদীতে পূজা ও স্নান করলে আধ্যাত্মিক শুদ্ধি, পাপমোচন এবং ঐশ্বরিক আশীর্বাদ লাভ হয়। এই দিনটি পবিত্র স্নান, পূজা এবং দানধ্যানের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
দেবী গঙ্গার অবতরণ
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, গঙ্গা এমন এক নদী যা স্বর্গ (ব্রহ্মলোক) থেকে প্রবাহিত হয়ে রাজা ভগীরথের পূর্বপুরুষদের আত্মাকে পবিত্র করেছিল। তাঁর প্রবল অবতরণের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়কর ধ্বংস রোধ করতে শিব তাঁর জটা দিয়ে গঙ্গার প্রবাহকে মৃদুভাবে পরিচালিত করেছিলেন।
যখন গঙ্গা ঋষি জহ্নুর আশ্রমের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলেন, তখন তা তাঁকে ক্রুদ্ধ করে তোলে, এবং রাগের বশে তিনি নদীটিকে পান করে ফেলেন। রাজা ভগীরথের প্রার্থনার প্রেক্ষিতে ঋষি জহ্নু তাঁকে নিজের কান থেকে মুক্ত করে দেন, যার ফলে তাঁর নাম হয় জাহ্নবী—জহ্নুর কন্যা। গঙ্গা সপ্তমী গঙ্গার নবজীবন এবং মানবজাতির কল্যাণে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহের স্মরণে পালিত হয়।
পবিত্রতা, মুক্তি এবং পাপক্ষালনের প্রতীক হল হিন্দুধর্মের সর্বাধিক পবিত্র নদী গঙ্গা। মানুষ বিশ্বাস করেন যে এই নদীতে স্নান করলে, বিশেষত গঙ্গা সপ্তমীতে, মোক্ষ (মুক্তি) লাভ হয় এবং কর্মঋণ থেকে মুক্তি মেলে।
১. গঙ্গায় পবিত্র স্নান
২. বিশেষ পূজা ও আরতি
৩. দান ও অনুদান
৪. শাস্ত্রপাঠ ও মন্ত্র উচ্চারণ
৫. পূর্বপুরুষদের জন্য আচার (পিতৃ তর্পণ)
মা গঙ্গার দিব্য জল আমাদের হৃদয়, মন এবং আত্মাকে শুদ্ধ করুক! 🙏🌊